নিজের ঠিক করা তারিখ অনুযায়ী আগামীকাল মারা যাবেন গুডঅল ·

গত এপ্রিলে ১০৪ বছরে পা দিয়েছেন বিজ্ঞানী ডেভিড গুডঅল। মোমবাতি জ্বালিয়ে, কেক কেটে যথাযথ মর্যাদায় জন্মদিন পালন হয় তাঁর। কিন্তু এই বয়সে সত্যিই কি যাথার্থ মর্যাদা পাচ্ছেন? এই প্রশ্ন কুরে কুরে খাচ্ছে গুডঅলকে।

এই অর্থহীন জীবনকে তিনি আর বয়ে নিয়ে যেতে রাজি নন। চাইছেন নিষ্কৃতি মৃত্যু। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে তা কখনই সম্ভব নয়। জেনেই গুডঅল পাড়ি দিচ্ছেন সুইজারল্যান্ডে। যে দেশে মানুষ ভ্রমণে যায়, সেখানেই মৃত্যুকে ‘সমাধি’ করতে চাইছেন পরিবেশবিদ গুডঅল। গুডঅলের বয়স ১০৪ বছর হলেও তিনি এখনো শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। কিন্তু তিনি মনে করছেন, এ বয়সে তাঁর কোন স্বাধীনতা নেই। অন্যের উপর তাকে নির্ভর করতে হয়।

গুডঅলের কথায়, তিনি বাঁচতে চান যুবকের মতো। কিন্তু এই বয়সে তা সম্ভব নয়। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় জর্জরিত তিনি। এবারের জন্মদিনে গুডঅল বলেন, এই জীবন নিয়ে আমি মহাবিরক্ত। আর বাঁচতে চাই না। এখন শুধু দুঃখগুলো সঞ্চয় করে রাখছি।

এই বিজ্ঞানী বলেন, আমার মতো বৃদ্ধের নিজের মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ নাগরিক অধিকার থাকা উচিত। আমি চাই, নিষ্কৃতি মৃত্যুতে অনুমতি দিক রাষ্ট্র।অস্ট্রেলিয়ায় নিষ্কৃতি মৃত্যু বেআইনি হওয়ায় সুইজারল্যান্ড পাড়ি দিচ্ছেন তিনি। যদিও সেখানে নিষ্কৃতি মৃত্যুতেও বেশি কিছু ক্ষেত্রে কড়াকড়ি রয়েছে। আগামীকাল ১০ মে সুইজারল্যান্ডের বাসেলের এক ক্লিনিকে নিষ্কৃতি মৃত্যু হবে গুডঅলের। অস্ট্রেলিয়ায় নিষ্কৃতি-মৃত্যুর সমর্থক এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গুডঅলকে সুইত্জারল্যান্ড যেতে সাহায্য করেছেন।

১৯১৪ সালে লন্ডনে জন্ম হয় এই বিজ্ঞানীর। অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাকতা করিয়েছেন গুডঅল। ১৯৭৯ সালে অবসরের পরও নানা গবেষণায় যুক্ত ছিলেন তিনি।

লন্ডনে জন্ম নেওয়া গুডঅল অস্ট্রেলিয়ার পার্থে একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। ১৯৭৯ সালে তিনি পূর্ণকালীন কাজ থেকে অবসর নেন। কিন্তু এরপরও তিনি মাঠ পর্যায়ের গবেষণার সাথে ব্যাপকভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কাওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা বেতনে গবেষণা করতেন।

তাঁর বয়স বেশি হয়ে যাবার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া এবং কাজ করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে বলেছিল তাঁকে বাসায় বসে কাজ করার জন্য। কিন্তু গুডঅল ১০২ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মামলার রায় তাঁর পক্ষে আসে।

গত ৭০ বছরে গুডঅল ১০০’র বেশি গবেষণা প্রবন্ধ লিখেছেন। বেশি বয়স হয়ে যাবার কারণে মি: গুডঅলকে গাড়ি চালানো ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি একসময় থিয়েটারের সাথেও জড়িত ছিলেন। কিন্তু বয়সের কারণে সেটিও তাকে ছাড়তে বাধ্য করা হয়। গুডঅলের স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নেবার নেবার পেছনে আরেকটি কারণ আছে।

গত বছর তিনি তাঁর অ্যাপার্টমেন্টে পড়ে যান। এরপর দুইদিন পর্যন্ত তিনি নিখোঁজ ছিলেন। চিকিৎসকরা বলেছেন, এমন অবস্থায় তাঁর সেবা দেবার জন্য ২৪ঘণ্টা একজনকে থাকতে হবে নতুবা তাঁকে একটি নার্সিং কেয়ারে স্থানান্তর করতে হবে। কিন্তু তিনি সেটা চাননি। গুডঅলের সাথে তাঁর পুরনো বন্ধুদের এখন আর দেখা হয়না। চলাচল সীমিত হয়ে গেছে তাঁর। এমন অবস্থায় বেঁচে থাকার কোনও অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। তাঁর মৃত্যুর সময় ঘনিষ্ঠ আত্নীয়রা পাশে থাকবেন।

About newsroom

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের মিষ্টি চেহারা ও আবেদনময়ী ১০ অভিনেত্রী

আবেদনময়ী ১০ অভিনেত্রী – বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের মিষ্টি চেহারা ও আবেদনময়ী ১০ অভিনেত্রী-দেশে এখন বেশ ...

নায়ক-নায়িকা হলে কী হবে! অনেকে কিন্তু শিক্ষা জীবনে …

নায়ক-নায়িকা হলে – টিভি-চলচ্চিত্রের নায়ক-নায়িকা হলে কী হবে! অনেকে কিন্তু শিক্ষা জীবনেও নায়ক। তবে ঢাকাই ...

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow