‘তাজিন আহমেদকে নিয়ে পত্রিকায় মিথ্যে খবর প্রকাশিত হচ্ছে’

দিলারা ডলি রচিত ও শেখ নিয়ামত আলী পরিচালিত ‘শেষ দেখা শেষ নয়’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাজিন আহমেদের অভিনয়যাত্রা শুরু হয়েছিল। নাটকটি ১৯৯৬ সালে বিটিভিতে প্রচার হয়েছিল। এরপর তিনি অসংখ্য নাটক-টেলিছবি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন থিয়েটারে অভিনয় করেছেন।

তাজিন আহমেদের জন্ম ১৯৭৫ সালের ৩০ জুলাই নোয়াখালী জেলায়। তিনি বেড়ে উঠেছেন পাবনা জেলায়। বাংলাদেশের একজন অভিনেত্রী এবং উপস্থাপক। ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে পড়াশোনা করেছেন তাজিন আহমেদ।

আকস্মিক ২২ মে দুপুরে হার্ট অ্যাটাক করে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এ অভিনেত্রী। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আইসিইউতে ভর্তি করা হয় তাকে। ওইদিন বিকালেই নিভে গেছে অভিনেত্রী তাজিনের জীবনপ্রদীপ।

তাজিন আহমেদের মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে নানা কথাই রটছে। কেউ বলছেন আর্থিক অনটনে কষ্ট করতে করতে মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি। দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গেও ডিভোর্স হয়েছে তার।

কোথাও বলা হচ্ছে তার মা কোন এক বৃদ্ধাশ্রমে আছেন কোথাও বলা হচ্ছে কাশিমপুর কারাগারে আছেন। গত তিন বছর ধরে তাজিন আহমেদের দেখভাল করেছেন মেকাপ আর্টিস্ট মিহির মহন। দু:খের সময়টা তিনিই পাশে থেকেছেন। তাজিন আহমেদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কিছুদিন সর্বদা পাশে থেকেছেন অভিনেত্রী হুমায়রা হিমু।

সম্প্রতি পত্রপত্রিকাতে নানা রঙ্গ মাখিয়ে তাজিন আহমেদের নামে খবর প্রকাশ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে লাইভে আসেন হুমাইরা হিমু। সেখানে অভিনেত্রী হুমাইরা হিমু দাবি করেছেন, অধিকাংশ পত্রিকায় প্রয়াত অভিনেত্রী তাজিন আহমেদকে নিয়ে মিথ্যে খবর প্রকাশিত হচ্ছে।

তাজিন আহমেদকে আপুনি সম্বোধন করে হুমায়রা হিমু বলেন, তাকে আমি কিছুটা দিন কাছে পেয়েছি, মৃত্যুর আগে কিছু সময়, কয়েকটা দিন মাত্র তার পাশে থাকতে পেরেছি। আপুনির দুঃখকষ্টগুলো শেয়ার করতে পেরেছি। তিনি আমার কাছে দুঃখকষ্টের কথাগুলো বলতেন। আমাদের স্বার্থপর মিডিয়ায়, মানুষজন যেভাবে অভিনয় করছে, যেভাবে খবর প্রচার হচ্ছে, তা দেখে বসে থাকতে পারলাম না। ভেবেছি আপুনিকে নিয়ে কোনো কথাই বলব না। কিন্তু একজন মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে যেভাবে ব্যবসা শুরু হয়েছে আমার মনে হয়েছে কথাগুলো আসলে বলা উচিত। আমি যদি না বলতে পারি আপুনির আত্মা উপরে গিয়ে শান্তি পাবে না।

হিমু বলেন, আসলেই আমরা অনেক স্বার্থপর। আমরা প্রতিনিয়ত অভিনয় করে যাই। আমরা যে কত বড় অভিনেতা সেটা আসলে আমরা ভুলেই যাই, আমাদের সবার অস্কার পাওয়া উচিত। প্রত্যেকটা মানুষের মন্তব্য দেখছি আর হাসছি, আমরা এটা ভুলে যাচ্ছি মৃত্যুটা সত্য, সবার জীবনে আসবে। আপুনির দুঃখ-কষ্টের কথাগুলো আমরা সবাই জানতাম। কিন্তু কেউ আমরা সাহায্য করলাম না। সবার ওপরে অভিমান নিয়ে চলে গেল। সবার ওপর অভিমান ছিল আপুর, আমাদের প্রত্যেকটা মানুষের ওপরে। আজকে আমরা বলছি আমরা তার সহশিল্পী, আমরা তার কতকিছু, বন্ধু… কেন ভাই? এই বন্ধু, সহশিল্পী, বেঁচে থাকতে আমরা তার পাশে এগিয়ে আসতে পারিনি? পাশে আসা তো তো উচিত ছিল আমাদের। কিন্তু আমরা আসতে পারিনি।

হিমু বলেন, এখন মিডিয়ার অনেক মানুষ তাজিন আপুর বন্ধু দাবি করে নানা রকম কথা বলছেন। কিন্তু তিনি জীবিত থাকা অবস্থায় কেউ তার খবর রাখেনি। আর যে দাড়িয়েছে সর্বদা তার সাথে থেকেছেন তিনি মেকাপ আর্টিস্ট মিহির মহন। অথচ কোথাও কেউ তার নামটিও বলছেন না। কেন রে ভাই তারও তো একটা নাম আছে!

ভিডিওতে কথা বলেন মিহির মহন নিজেও। তাজিন আহমেদ তাকে ছেলের মতো দেখতেন দাবি করে তিনি জানান, অনেকেই বলছেন দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গেও তাজিনের ডিভোর্স হয়েছে। কিন্তু তাজিনের সঙ্গে তার দ্বিতীয় স্বামীর ডিভোর্স হয়নি। তবে সম্পর্ক ভালো ছিল না। মৃত্যুর দিন সকালেও তাজিন তার স্বামীকে বারবার ফোন দিতে বলেছিলেন। কিন্তু মহন বারবার ফোন করেও তাকে পায়নি। তাজিনের নম্বর সে ব্লক করে রেখেছিল।

About newsroom

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের মিষ্টি চেহারা ও আবেদনময়ী ১০ অভিনেত্রী

আবেদনময়ী ১০ অভিনেত্রী – বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের মিষ্টি চেহারা ও আবেদনময়ী ১০ অভিনেত্রী-দেশে এখন বেশ ...

নায়ক-নায়িকা হলে কী হবে! অনেকে কিন্তু শিক্ষা জীবনে …

নায়ক-নায়িকা হলে – টিভি-চলচ্চিত্রের নায়ক-নায়িকা হলে কী হবে! অনেকে কিন্তু শিক্ষা জীবনেও নায়ক। তবে ঢাকাই ...

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow