‘মন কি বাত’-এর সেই সহিদুল মনের কথা শোনাতে যাচ্ছেন মোদীকে

বারুইপুরের প্রান্তিক এক গ্রাম পুঁড়ি। হাসপাতাল ১১ কিলোমিটার দূরে। অসু্স্থ হলে বিপদের শেষ নেই। রোগীর প্রাণ যায় যায় অবস্থা।অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই মৃত্যু হয় রোগীর। একশো গ্রামের ভরসা ওই একটি মহকুমা হাসপাতাল।

সম্প্রতি ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে এই পুঁড়ি গ্রামের কথাই তুলে ধরেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

সৌজন্যে মহম্মদ সহিদুল লস্কর। পেশায় ট্যাক্সি চালক সহিদুল। ২০০৪ সালে ক্লাস এইটে পড়া বোন মারুফার মৃত্যু হয়েছিল প্রায় বিনা চিকিত্সায়। সহিদুলের বয়স তখন বছর তিরিশেক। তার পরই হাসপাতাল গড়ার জেদটা চেপে বসে। নমোর কণ্ঠে তাঁর এই লড়াইয়ের কাহিনি শুনেছেন দেশবাসী। এ বার সহিদুল প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর নিজের ‘মন কি বাত’ শোনাতে চান।

হাসপাতাল গড়তে লাগবে ১২ কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই তিলতিল করে টাকা জোগাড় করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সীতাকুণ্ড লাগোয়া পুঁড়ি গ্রামে ২ বিঘা জমি কিনেছেন তিনি। নিজের ৩টি ট্যাক্সিও বিক্রি করেছেন। স্ত্রী শামিমা বিয়ের গয়না তুলে দিয়েছেন স্বামীর হাতে।

সহিদুল ট্যাক্সি চালাতে চালাতে যাত্রীদের কাছে হাসপাতাল তৈরির জন্য অনুদানের আবদারও করেন। অনেকে অবাক হন। অনেকে সাহায্য করেন। অনেকে বলেছেন, ট্যাক্সি চালিয়ে হাসপাতাল গড়বেন! সম্ভব? আবার অনেকে অবিশ্বাসও করেছেন।

সহিদুলের লক্ষ্য ছিল স্থির। একটি ইটের টাকা জোগার হলেই খুশি হতেন তিনি। একদিন এ ভাবেই মায়ের সঙ্গে সাউথ সিটি থেকে সহিদুলের ট্যাক্সিতে উঠেছিলেন সৃষ্টি ঘোষ। তাঁর এই কাহিনি শুনে কেঁদে ফেলেছিলেন। বেঙ্গালুরুতে চাকরি পেয়ে সৃষ্টি প্রথম মাসের বেতন তুলে দিয়েছিলেন তাঁর হাতে। অনুদান এসেছে সিঙ্গাপুর থেকেও। পাশে রয়েছেন চিত্রশিল্পী সমীর আইচের মতো বিশিষ্টরাও। ইতিমধ্যেই ওই জমিতে চারতলা হাসপাতালের সূচনাও হয়ে গিয়েছে। একটু একটু করে গড়ে উঠছে ‘মারুফা মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড জেরিয়াট্রিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট’। চিকিসকেরাও এগিয়ে এসেছেন। এমনকী চেন্নাই থেকেও গ্রামীণ হাসপাতালে পরিষেবা দিতে রাজি হয়েছেন দুই বিশিষ্ট ডাক্তার। সহিদুলের এখন লক্ষ্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আউটডোর পরিষেবা চালু করা। তিনি বয়স্কদের জন্যে বিশেষ পরিষেবা দিতে চান। সহিদুলের কথায়, বয়স হলে বৃদ্ধ বাবা-মাকে দেখতে চান না ছেলেমেয়েরা। অসুস্থ হলে ডাক্তার দেখানোর লোক থাকে না। আবার অনেকের সন্তান বিদেশে থাকেন। আমি চাই ওনাদের চিকিৎসা হোক বাড়িতেই। কষ্ট করে হাসপাতালে আসতে হবে না। ডাক্তাররাই যাবেন বাড়িতে। হাসপাতালে এলে ফর্ম ফিলাপ করার ঝামেলা থাকবে না। টাকা নিয়ে চিন্তারও কিছু নেই। রোগী এলে আগে হবে চিকিৎসা। তার পর নিময়-কানুন। তিনি বলেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি-সহ হাসপাতাল চালু করতে গেলে আনুমানিক খরচ হবে ১২ কোটি টাকা। এত টাকা জোগাড় করতে গেলে অনেক সময় লাগবে। সে কারণেই আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই। খুব শিগগিরই তাঁর সঙ্গে দেখা হবে।তিনি আমার সমস্যার কথা শুনবেন। সরকারি অনুদানও পাব বলে আশাবাদী।

এভাবেই সকলের আশির্বাদ নিয়ে এগিয়ে চলেছি, জানালেন সহিদুল। তিনি বলেন, আমি হয়ত থাকব না। কিন্তু এই হাসপাতাল থাকবে মানুষের সেবায়।

About newsroom

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মহাকাশে যাত্রা যেভাবে

বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হলো। ফ্যালকন-৯ রকেটের ...

এবার সৌদি সরকার প্রবাসী ট্যাক্সি চালকদের উপর চাপিয়ে দিল নিয়ম-নীতির বিশাল বোঝা

সৌদিকরণের ফলে প্রবাসীদের তাড়াতে নানা পন্থা অবলম্বন করেছে সৌদি সরকার। ফলে বিভিন্ন খাত থেকে বিতাড়িত ...

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow